পবিত্র ঈদুল আযহা ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জানুন এবার ঈদুল আযহা
কবে পড়ছে সম্ভাব্য তারিখ ২৭ অথবা ২৮ মে।হযরত ইবরাহিম (আ)এর ত্যাগের মহিমা
কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা আরাফাতের দিন ঈদের দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা সবকিছু
একসাথে।
ঈদুল আযহার এই পবিত্র উৎসবে আত্মশুদ্ধি ভালোবাসা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক
প্রতিটি ঘরে।
গরিব দুঃখীর মুখে হাসি ফোটানো আত্মীয়স্বজনের সাথে সময় কাটানো আর আল্লাহর প্রতি
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই মহান দিনে সকলকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক।ত্যাগের মাধ্যমে
যে আনন্দ লুকিয়ে আছে তা অনুভব করুন এই ঈদে।
পেজ সূচিপত্রঃ ঈদুল আযহা ২০২৬ কবে হবে বিস্তারিত তথ্য জানুন
ঈদুল আযহা ২০২৬ কবে হবে বিস্তারিত তথ্য জানুন
ঈদুল আযহা ২০২৬ কবে হবে? বিস্তারিত তথ্য।ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ মুসলিমদের
অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ২০২৬ সালে এই পবিত্র ঈদ হিজরি ১৪৪৭ সালের জিলহজ মাসের
১০ তারিখে উদযাপিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় গণনা ও বিভিন্ন দেশের অফিসিয়াল সূত্র
অনুসারে, **বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ঈদুল আযহা ২৭ মে ২০২৬, বুধবার** পড়ার সম্ভাবনা
সবচেয়ে বেশি। তবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে।
জিলহজ মাস শুরু হবে ১৮ মে ২০২৬, সোমবার থেকে। আরাফাতের দিন (জিলহজ ৯ তারিখ)
সম্ভাব্য ২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার। এই দিন হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে
দোয়া-ইস্তেগফার করেন। ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কুরবানি করা হয়। সৌদি
আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২৭ মে ঈদ উদযাপিত
হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে চাঁদ দেখা
সাপেক্ষে ২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদ হতে পারে।
ঈদুল আযহার তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বাংলাদেশে
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সাধারণত মাগরিবের পর সভা করে ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালে এই সভা
অনুষ্ঠিত হবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য। আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতার কারণে কোনো
কোনো বছর তারিখে তারতম্য দেখা যায়। তাই সর্বশেষ অফিসিয়াল ঘোষণার জন্য ইসলামিক
ফাউন্ডেশন বা স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের খবর অনুসরণ করুন। এই ঈদ উপলক্ষে হজের
মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। হজ শুরু হয় জিলহজ ৮ তারিখ থেকে। ২০২৬ সালে হজের মূল
দিনগুলো ২৫ থেকে ২৯ মে-এর মধ্যে পড়বে। লাখ লাখ মুসল্লি পবিত্র কাবা শরীফে গিয়ে হজ
পালন করবেন। যারা হজে যেতে পারেন না, তারা ঘরে বসে কুরবানি দিয়ে এই ত্যাগের
স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেন। ঈদুল আযহার গুরুত্ব অপরিসীম।
এটি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগের কাহিনির স্মারক।
কুরবানির মাধ্যমে আমরা শিখি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেকোনো কিছু ত্যাগ করতে
প্রস্তুত থাকার শিক্ষা। ঈদের দিন নামাজ, কুরবানি, আত্মীয়স্বজনের সাথে
দেখা-সাক্ষাৎ, দান-সদকা ও গরিবদের মধ্যে মাংস বিতরণের মাধ্যমে উৎসব পালিত হয়।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহায় অনেক দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশে সম্ভাব্য
২৮ মে ঈদ হলে ছুটি কয়েকদিন বাড়ানো হতে পারে। এই সময়ে পরিবারের সাথে সময় কাটানো,
নতুন জামা পরা, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।
সবশেষে, ঈদুল আযহা শুধু উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সহানুভূতি ও সমাজসেবারও উৎসব।
আল্লাহ যেন আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করেন এবং জীবনকে বরকতময় করেন। সঠিক তারিখ
জানতে স্থানীয় মসজিদ বা অফিসিয়াল ঘোষণা অনুসরণ করুন। ঈদ মোবারক!
জিলহজ মাস ২০২৬ কবে শুরু হবে ?
**জিলহজ মাস ২০২৬ সালে ১৮ মে (সোমবার) থেকে শুরু হবে।** এটি হিজরি ১৪৪৭ সালের ১
জিলহজ। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে বেশিরভাগ
আন্তর্জাতিক ইসলামিক ক্যালেন্ডার ও সৌদি আরবের প্রত্যাশিত তারিখ অনুসারে ১৮ মে
থেকেই এ মাস শুরু হচ্ছে। এ মাসটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় মাস।জিলহজ
মাস হলো ইসলামী চন্দ্রবর্ষের দ্বাদশ ও শেষ মাস। এ মাসে বিশ্বের লাখো মুসলমান হজ্জ
পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হন। হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ এবং এটি সম্পন্ন হয় এই
মাসেই। হজ্জের মূল কার্যক্রম শুরু হয় ৮ জিলহজ থেকে, যা ২০২৬ সালে ২৫ মে পড়বে।
এ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ৯ জিলহজ — আরাফার দিন। ২০২৬ সালে আরাফার দিন
পড়বে ২৬ মে। এ দিনে হজ্জকারীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে দোয়া-মোনাজাত করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। যারা হজ্জে
যাননি, তারা এ দিন রোজা রাখলে অতীত বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।জিলহজের প্রথম দশ
দিনকে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে যে, এ দশ দিনের
আমলের চেয়ে উত্তম কোনো দিনের আমল নেই। এ সময়ে তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহলীল,
তাহমীদ, নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সদকা ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক মুসলমান
এ দিনগুলোতে অতিরিক্ত ইবাদত করে থাকেন।
১০ জিলহজে ঈদুল আজহা পালিত হয়, যা ২০২৬ সালে ২৭ মে পড়বে। এ দিন মুসলমানরা কুরবানি
করেন, যা হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নাত। কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে নিজেরা
খান, আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করেন। এটি ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের
প্রতীক।জিলহজ মাস শুধু হজ্জ ও কুরবানির মাস নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও আল্লাহর
প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মাস। যারা হজ্জে যেতে পারেন না, তারা ঘরে বসে অধিক ইবাদত,
জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে এ মাসের বরকত লাভ করতে পারেন। এ সময়ে গুনাহ থেকে বেঁচে
থাকা এবং ভালো কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি।আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে জিলহজ মাসের
এই বরকতময় দিনগুলোতে ইবাদত করার, হজ্জের সওয়াব লাভের এবং কুরবানির মাধ্যমে তাঁর
সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন। এ মাস আমাদের জীবনে ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি
করুক এবং আমাদেরকে আরও নেক আমলের দিকে উদ্বুদ্ধ করুক।
আরাফাতের দিন ২০২৬ কবে? গুরুত্ব ও ফজিলত
**আরাফাতের দিন ২০২৬ সালে ২৬ মে (মঙ্গলবার)।** এটি হিজরি ১৪৪৭ সালের ৯ জিলহজ।
চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে বেশিরভাগ
আন্তর্জাতিক ইসলামিক ক্যালেন্ডার ও সৌদি আরবের প্রত্যাশিত তারিখ অনুসারে ২৬ মে
আরাফাতের দিন পড়ছে। এ দিন হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।আরাফাতের দিন হজ্জের
মূল অংশ। হজ্জকারীরা সকাল থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত
অবস্থান করেন (উকুফ)। এটি হজ্জের রুকন বা মূল স্তম্ভ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“হজ্জ তো আরাফাত।” যে ব্যক্তি আরাফাতের দিন উকুফ করতে পারে না, তার হজ্জ পূর্ণ হয়
না। এ দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে সবচেয়ে কাছে আসেন এবং তাদের দোয়া কবুল
করেন।আরাফাতের দিনের ফজিলত অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফার দিনের
চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই।” এ দিন আল্লাহ অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
হজ্জকারীদের জন্য এটি ক্ষমা ও রহমতের দিন। যারা হজ্জে যান না, তারা এ দিন রোজা
রাখলে আল্লাহ তাদের অতীত বছর ও আগামী বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।এ দিনে অধিক
পরিমাণে দোয়া, জিকির, তাকবীর, তাহলীল ও ইস্তিগফার করা উত্তম। আরাফাতের ময়দানে
দাঁড়িয়ে রাসূল (সা.) দীর্ঘ দোয়া করেছিলেন।
যারা ঘরে আছেন, তারা সারাদিন আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করবেন, বিশেষ করে আসরের
পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এ সময় কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।আরাফাতের দিন
ইসলামের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। বিশ্বের লাখো মুসলমান সাদা ইহরাম পরে একই
জায়গায় সমবেত হয়ে আল্লাহর সামনে নত হয়। এ দৃশ্য কিয়ামতের দিনের পূর্বাভাস।
ধনী-গরিব, সাদা-কালো, আরব-অনারব সবাই সমান। এটি তাওহীদের সুস্পষ্ট প্রকাশ।যারা
আরাফাতের রোজা রাখেন, তাদের জন্য বিশেষ সওয়াব। রাসূল (সা.) এ দিন রোজা রাখতেন এবং
উম্মতকে রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন। রোজা রাখার সাথে সাথে গুনাহ থেকে বিরত থাকা,
পরনিন্দা ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা জরুরি। এ দিনের রোজা দুই বছরের গুনাহ মোচন
করে।আরাফাতের দিন আত্মশুদ্ধি ও তওবার সর্বোত্তম সময়। মুসলমানদের উচিত এ দিন নিজের
জীবন পর্যালোচনা করা, অতীতের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। এ দিনের
আমল কবুল হলে পুরো জীবন বদলে যেতে পারে। অনেকে এ দিন কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও
সদকা করে থাকেন।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে আরাফাতের দিনের এই মহান ফজিলত লাভের তাওফিক দান
করুন। যারা হজ্জে যাচ্ছেন, তাদের হজ্জ কবুল করুন এবং যারা ঘরে আছেন, তাদের ইবাদত
কবুল করে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করুন। আমীন। এ দিনটি আমাদের ঈমানকে আরও
মজবুত করুক।
ঈদুল আযহার প্রস্তুতি: কোরবানি, নামাজ ও উদযাপন
**ঈদুল আযহা ২০২৬ সালে ২৮ মে (বুধবার) পালিত হবে।** এটি হিজরি ১৪৪৭ সালের ১১
জিলহজ। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসারে এই তারিখই প্রত্যাশিত। ঈদুল আযহা
ত্যাগ, কুরবানি ও আনন্দের উৎসব। এর প্রস্তুতি শুরু হয় জিলহজ মাসের প্রথম দিন
থেকেই।
ঈদুল আযহার প্রধান প্রস্তুতির মধ্যে অন্যতম হলো কুরবানির পশু নির্বাচন ও ক্রয়।
সুস্থ, ত্রুটিহীন, বয়স্ক ও মোটাতাজা পশু কিনতে হয়। গরু, ছাগল, ভেড়া, উট ইত্যাদি
কুরবানি করা যায়। পশু কেনার সময় দাঁত, চোখ, পা, চামড়া ভালোভাবে পরীক্ষা করা
উচিত। অনেকে মাসের শুরু থেকেই পশু কিনে লালন-পালন করেন। কুরবানির অর্থ যথাসময়ে
জমা করা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদের নামাজ ঈদুল আযহার অন্যতম প্রধান ইবাদত। নামাজের জন্য আগের রাত থেকে
প্রস্তুতি নিতে হয়। গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার
করা এবং তাকবীর পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। ঈদের নামাজ সূর্যোদয়ের পর থেকে
জোহরের আগে আদায় করা হয়। নামাজের পর খুতবা শোনা হয় এবং মুসল্লিরা পরস্পরকে
কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কুরবানির নিয়ম-কানুন মেনে চলা খুব জরুরি। পশুকে সুস্থ রাখা, সঠিকভাবে জবাই করা,
রক্ত প্রবাহিত হতে দেওয়া এবং আল্লাহর নামে জবাই করা আবশ্যক। কুরবানির মাংস তিন
ভাগে ভাগ করা সুন্নাত — এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের
জন্য এবং এক ভাগ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণের জন্য। এতে ত্যাগের আসল উদ্দেশ্য
পূরণ হয়।
ঈদুল আযহার উদযাপন পরিবার ও সমাজকে কেন্দ্র করে হয়। ঈদের দিন সকালে নামাজের পর
বাড়িতে ফিরে মিষ্টি খাওয়া, নতুন জামা পরা এবং আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়া হয়। অনেক
পরিবার ঈদের দিন বিশেষ খাবার যেমন বিরিয়ানি, কাবাব, শর্মা ইত্যাদি রান্না করে।
কুরবানির মাংস দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয় যা সবাই মিলে উপভোগ
করে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা, ঈদগাহ বা মসজিদ সাজানো এবং
দরিদ্রদের জন্য বিশেষ সাহায্যের ব্যবস্থা করা উচিত। অনেক মুসলমান আগে থেকেই
কুরবানির টাকা সংগ্রহ করে দান করে দেন। এছাড়া ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের
সাথে সময় কাটানো, শিশুদের নতুন জামা-কাপড় কেনা এবং তাদের আনন্দ দেওয়া উদযাপনের
অংশ।
ঈদুল আযহা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের
প্রতীক। হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নাত পালনের মাধ্যমে আমরা শিখি যে, আল্লাহর
জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতে হয়। এই উৎসবে ধনী-গরিবের মধ্যে
ভ্রাতৃত্ব ও সমতার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে ঈদুল আযহার প্রস্তুতি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার এবং
কুরবানি, নামাজ ও উদযাপনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের তাওফিক দান করুন।
আমীন। এই ঈদ আমাদের জীবনে বরকত, শান্তি ও ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করুক।
বাংলাদেশে ঈদুল আযহা ২০২৬ কবে হতে পারে?
**বাংলাদেশে ঈদুল আযহা ২০২৬ সালে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) উদযাপিত হবে।** এটি হিজরি
১৪৪৭ সালের ১০ জিলহজ। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুসারে জিলহজ মাসের চাঁদ
দেখা গেছে এবং সেই হিসেবে এই তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের
দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে একদিন পর ঈদ পালিত হয় ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার
প্রথার কারণে।
বাংলাদেশে ঈদুল আযহার তারিখ চূড়ান্ত হয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায়। বায়তুল
মোকাররমে অনুষ্ঠিত সভায় চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হলে তারিখ ঘোষণা করা হয়। ২০২৬
সালে জিলহজ মাস ১৮ মে থেকে শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয় এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে
২৮ মে ঈদুল আযহা নির্ধারিত হয়। এটি সরকারি ছুটির দিন এবং সারাদেশে একযোগে পালিত
হয়।
ঈদুল আযহা বাংলাদেশের মুসলমানদের কাছে ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। এ দিন হযরত
ইবরাহীম (আ.)-এর আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও কুরবানির স্মরণ করা হয়। গ্রাম থেকে
শহর সব জায়গায় কুরবানির প্রস্তুতি চলে। অনেক পরিবার আগে থেকেই পশু ক্রয় করে
লালন-পালন করে। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ ময়দান বা মসজিদে নামাজ আদায়ের পর কুরবানি
করা হয়।
বাংলাদেশে ঈদুল আযহার উদযাপন খুবই আনন্দময় ও সামাজিক। ঈদের নামাজের পর
আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, কোলাকুলি এবং মিষ্টি বিতরণ হয়। কুরবানির
মাংস তিন ভাগ করে নিজেদের জন্য, আত্মীয়দের জন্য এবং দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে
বিতরণ করা হয়। এতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।
ঈদের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। নতুন
জামা-কাপড়, জুতা, খেলনা এবং কুরবানির পশুর হাটে ভিড় জমে। অনেকে অনলাইনেও পশু
ক্রয় করেন। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো দরিদ্রদের জন্য বিশেষ কুরবানির
ব্যবস্থা করে। ঈদের ছুটিতে অনেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান পরিবারের সাথে সময়
কাটাতে।
বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সাধারণত ঈদের দিনসহ
আশেপাশের দিনগুলো ছুটি থাকে। ব্যাংক, অফিস-আদালত বন্ধ থাকে। এ সময়ে ট্রেন, বাস
ও লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এ সময় দেশে ফিরে আসেন।
ঈদুল আযহা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও দানের মাস। বাংলাদেশের মানুষ
এ দিন অতিরিক্ত নামাজ, জিকির, দোয়া ও সদকা করে থাকেন। কুরবানির মাধ্যমে যে
ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়, তা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন।
গরিব-দুঃখীদের মধ্যে মাংস বিতরণের ফলে সমাজে সাম্য ও সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি
হয়।আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে বাংলাদেশে এই ঈদুল আযহা সুন্দরভাবে উদযাপন করার
এবং কুরবানির মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের তাওফিক দান করুন। এ ঈদ আমাদের
ঈমানকে মজবুত করুক, পরিবার ও সমাজে শান্তি বয়ে আনুক। সবাইকে ঈদুল আযহার আগাম
শুভেচ্ছা। আমীন।
ঈদুল আযহার ইতিহাস ও তাৎপর্য জানুন
**ঈদুল আযহার ইতিহাস হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ঘটনার সাথে জড়িত।** আল্লাহ তা’আলা
স্বপ্নের মাধ্যমে ইবরাহীম (আ.)-কে তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি
করার নির্দেশ দেন। ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর এই আদেশ পালনে কোনো দ্বিধা করেননি।
তিনি পুত্রকে সবকিছু জানালে ইসমাইল (আ.)ও আল্লাহর ইচ্ছায় নিজেকে কুরবানি দিতে
প্রস্তুত হন। এই অসাধারণ আনুগত্য ও ত্যাগের ঘটনা ঈদুল আযহার মূল ভিত্তি। আল্লাহ
এই ত্যাগ কবুল করে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন।ঈদুল আযহা
হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে এই
উৎসব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রচলিত। মক্কায় হজ্জ সম্পন্ন করে হজ্জকারীরা এবং
বিশ্বের সকল মুসলমান এ দিন কুরবানি করে থাকেন। এটি ইসলামের দুটি বড় ঈদের একটি,
যা ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করে। ঈদুল ফিতরের পর এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব।
ঈদুল আযহার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ।
ইবরাহীম (আ.)-এর ঘটনা থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ যা চান তা নিঃস্বার্থভাবে দিতে
হবে — চাই তা যতই প্রিয় হোক না কেন। এই ঈদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত
মুসলমান হলেন যিনি আল্লাহর জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত।কুরবানির মাধ্যমে
ধনী-গরিবের মধ্যে সমতা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কুরবানির মাংস তিন ভাগে
বিভক্ত করে এক ভাগ নিজের পরিবার, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন এবং এক ভাগ
দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আনন্দ ভাগ
করে নেয় এবং সামাজিক বৈষম্য কমে।ঈদুল আযহা ইসলামী ঐক্যের প্রতীক। বিশ্বের লাখো
মুসলমান একই দিনে কুরবানি করে, একই ঈদগাহে নামাজ পড়ে এবং একই তাকবীর ধ্বনিতে
আকাশ বাতাস মুখরিত করে। এটি সাদা-কালো, ধনী-গরিব, আরব-অনারবের সকল বিভেদ ভুলিয়ে
এক আল্লাহর সামনে নত হওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই ঈদ আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নেরও উপলক্ষ। কুরবানির পশুর মতো নিজের ভিতরের
পশুত্ব (ক্রোধ, লোভ, হিংসা) কুরবানি করার প্রতীকী শিক্ষা এতে রয়েছে। মুসলমানরা
এ দিন অধিক নামাজ, জিকির, দোয়া, তওবা ও সদকা করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেন।ঈদুল
আযহা আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত সুখ ও শান্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিতে নিহিত। হযরত
ইবরাহীম (আ.)-এর মতো যারা আল্লাহকে সবার উপরে স্থান দেন, আল্লাহ তাদেরকে সম্মান
ও মুক্তি দান করেন। এই উৎসব প্রতি বছর আমাদেরকে এই মহান শিক্ষা স্মরণ করিয়ে
দেয়।আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে ঈদুল আযহার ইতিহাস ও তাৎপর্য অনুধাবন করে
সঠিকভাবে এই উৎসব পালনের তাওফিক দান করুন। যেন আমরা প্রকৃত ত্যাগের আদর্শ
অনুসরণ করে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারি। ঈদুল আযহা আমাদের জীবনে
বরকত, শান্তি ও ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করুক। আমীন।
হজ্জ ২০২৬ এর সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
হজ্জ ২০২৬ সালে ২৫ মে (সোমবার) থেকে শুরু হবে** এবং মূল কার্যক্রম ৩০ মে
পর্যন্ত চলবে। এটি হিজরি ১৪৪৭ সালের ৮ থেকে ১২/১৩ জিলহজ। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর
করে তারিখ সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ইসলামিক
ক্যালেন্ডার ও সৌদি আরবের প্রত্যাশিত তারিখ অনুসারে এই সময়সূচিই নির্ধারিত।
হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ এবং মুসলিম জীবনের সর্বোচ্চ ইবাদতগুলোর একটি।৮ জিলহজ
(২৫ মে, সোমবার):** হজ্জের প্রথম দিন। হজ্জযাত্রীরা ইহরাম বেঁধে মিনায় যান। এ
দিনকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বলা হয়। মিনায় রাত্রিযাপন করা হয় এবং পরবর্তী দিনের
প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এটি হজ্জের আনুষ্ঠানিক শুরু।৯ জিলহজ (২৬ মে, মঙ্গলবার):**
আরাফাতের দিন। হজ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। হজ্জযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে
সমবেত হয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান (উকুফ) করেন। এ দিন দোয়া-মোনাজাত, জিকির ও
তওবায় কাটানো হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হজ্জ তো আরাফাত।” সূর্যাস্তের পর
মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করা হয়।
১০ জিলহজ (২৭ মে, বুধবার):** ঈদুল আযহার দিন। সকালে জামরাতুল আকাবায় কংকর
নিক্ষেপ, কুরবানি, মাথা মুন্ডন/চুল ছাঁটা এবং তাওয়াফে ইফাদাহ করা হয়। এ দিন
মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করা হয়। বিশ্বের লাখো মুসলমান এ দিন কুরবানি
করে থাকেন।১১ ও ১২ জিলহজ (২৮ ও ২৯ মে) আইয়ামে তাশরীক। হজ্জযাত্রীরা মিনায়
অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন। এ দিনগুলোতে তাকবীর পড়া,
দোয়া ও ইবাদত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। অনেকে ১২ তারিখে মিনা থেকে ফিরে
আসেন।হজ্জের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ত্যাগ ও
আত্মশুদ্ধির প্রতীক। হজ্জ সম্পন্ন করলে হাজী সাহেবের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে
যায় এবং তিনি নবজাতকের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে আসেন। এটি বিশ্বের বিভিন্ন
প্রান্তের মুসলমানদের একত্রিত করে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
হজ্জের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে শুরু হয়। শারীরিক সুস্থতা, আর্থিক সামর্থ্য,
নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং হজ্জের নিয়ম-কানুন শেখা অত্যন্ত জরুরি। সৌদি সরকারের নিয়ম
অনুসরণ করে ভিসা, টিকিট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। অনেকে মাসের
প্রথম দশক থেকেই মক্কায় পৌঁছে উমরাহ আদায় করে প্রস্তুতি নেন।হজ্জ শুধু শারীরিক
কষ্ট স্বীকার নয়, বরং আত্মিক উন্নয়নেরও সুযোগ। এ সময় লোভ, হিংসা, অহংকারসহ সকল
খারাপ গুণ ত্যাগ করার প্রশিক্ষণ হয়। আরাফাতের দিনের দোয়া, কুরবানির ত্যাগ এবং
সাদা ইহরামের সমতা মানুষকে কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে হজ্জ ২০২৬-এর এই বরকতময় সময়ে ইবাদত করার এবং যারা
হজ্জে যাচ্ছেন তাদের হজ্জ কবুল করার তাওফিক দান করুন। যারা যেতে পারছেন না,
তারা ঘরে বসে আরাফার দিন রোজা রেখে, তাকবীর ও দোয়া করে সওয়াব লাভ করুন। আমীন।
ঈদুল আযহায় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ
ঈদুল আযহায় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ।ঈদুল আযহার দিন সকালে গোসল করে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন বা উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং ঈদগাহ বা
মসজিদে যাওয়ার আগে তাকবীর পড়তে পড়তে যাওয়া সুন্নাত। ঈদের নামাজ আদায় করা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের পর খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। নামাজ শেষে
আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময়
করুন। এতে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হয়।কুরবানি করা ঈদুল আযহার অন্যতম প্রধান
করণীয়। সুস্থ, ত্রুটিহীন ও বয়স্ক পশু নির্বাচন করুন। জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম
নিয়ে জবাই করুন এবং কুরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও
দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করুন। এ সময় তাকবীরে তাশরীক জোরে জোরে পড়ুন।
কুরবানির পর মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা এবং ঈদের দিন অতিরিক্ত নফল নামাজ, কুরআন
তিলাওয়াত ও দোয়া-ইস্তিগফার করা উত্তম।
ঈদুল আযহায় আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়া, তাদের খোঁজ নেওয়া এবং বিশেষ করে বয়স্ক ও
অসুস্থদের সাথে সময় কাটানো করণীয়। দরিদ্রদের জন্য বিশেষ সাহায্য করুন। ঘরবাড়ি
পরিষ্কার রাখুন, শিশুদের নতুন জামা দিন এবং পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিন।
এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে সদকা করা এবং আল্লাহর কাছে হজ্জ কবুলের দোয়া করা
উচিত।ঈদুল আযহায় অপচয় করা বর্জনীয়। কুরবানির মাংস অপচয় না করে সংরক্ষণ করুন এবং
প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকুন। ঝগড়া-বিবাদ, পরনিন্দা, গীবত ও
অশ্লীল কথাবার্তা একদম বর্জন করুন। ঈদের আনন্দে ধর্মীয় সীমালঙ্ঘন করা যাবে
না।হারাম খাবার, নাচ-গান, অশ্লীল অনুষ্ঠান ও অপব্যয় বর্জন করা জরুরি। কুরবানির
পশু জবাইয়ের সময় নিয়ম না মানা, পশুকে কষ্ট দেওয়া বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জবাই
করা একেবারেই উচিত নয়। অহংকার ও গর্ব প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
ঈদের দিন ও আইয়ামে তাশরীকে (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) রোজা রাখা বা অতিরিক্ত ইবাদত
করা খুব ফজিলতপূর্ণ। কিন্তু শুধু খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা বর্জনীয়।
টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল কনটেন্ট দেখা থেকে দূরে থাকুন।ঈদুল আযহা
ত্যাগ ও আনুগত্যের উৎসব। এই দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করুন।
কুরবানির মাধ্যমে নিজের ভিতরের খারাপ গুণাবলি ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করুন। সব
কাজে ইখলাস (নিষ্ঠা) বজায় রাখুন।আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে ঈদুল আযহায় করণীয়
কাজগুলো সঠিকভাবে পালন করার এবং বর্জনীয় বিষয় থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান
করুন। এই ঈদ আমাদের জীবনে বরকত, শান্তি ও ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করুক। আমীন।
ঈদুল আযহা ২০২৬ এ ছুটির সময়সূচি ও পরিকল্পনা
বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা উপলক্ষে **২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে
(রবিবার)** পর্যন্ত টানা **৭ দিনের** সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটি সকল
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের জন্য প্রযোজ্য। ২৩ মে
শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে ঈদযাত্রা সুষ্ঠু হয়। ঈদের দিন
সম্ভবত ২৭ বা ২৮ মে পড়বে। এই দীর্ঘ ছুটি অনেকের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটানোর
সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ছুটির সময়সূচি অনুসারে ২৫ ও ২৬ মে প্রস্তুতির
দিন, ২৭-২৮ মে ঈদ ও কুরবানির দিন এবং ২৯ থেকে ৩১ মে বিশ্রাম ও আত্মীয়দের বাড়ি
যাওয়ার দিন। অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সময়সূচি অনুসরণ করে ছুটি
দিয়ে থাকে। ব্যাংক, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ থাকবে। এই ছুটিতে দেশের
অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকে ট্রেন, বাস ও লঞ্চের টিকিট কাটা উচিত। গ্রামে
যাওয়ার পরিকল্পনা করে রাখুন। অনেকে ২৪ মে রাতেই রওনা দেন। শহরে থাকলে কুরবানির
পশু কেনা, জবাইয়ের ব্যবস্থা ও মাংস বিতরণের পরিকল্পনা আগেই করে রাখুন। পরিবারের
সদস্যদের সাথে আলোচনা করে কে কোন দায়িত্ব নেবেন তা নির্ধারণ করুন। ছুটির
সময় আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, ঘুরে বেড়ানো এবং পরিবারের সাথে
মানসম্পন্ন সময় কাটানোর পরিকল্পনা করুন। শিশুদের জন্য নতুন জামা-কাপড়, খেলনা
কেনাকাটা করে রাখুন। ঈদের দিন ঈদগাহে নামাজ আদায়ের পর কুরবানি সম্পন্ন করুন এবং
মাংস তিন ভাগে ভাগ করে বিতরণের ব্যবস্থা করুন। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা খুব
জরুরি। কুরবানির পশুর দাম, ঈদের কেনাকাটা, ভ্রমণ খরচ ও উপহারের জন্য আগে থেকে
বাজেট তৈরি করুন। অপচয় এড়িয়ে চলুন। অনেকে অনলাইনে পশু ক্রয় বা দানের মাধ্যমে
কুরবানি দিয়ে থাকেন। ছুটির আগে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখুন যাতে
ভিড় এড়ানো যায়।

ছুটির সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকুন। গরমে পানি বেশি খান, স্বাস্থ্যকর
খাবার খান এবং কুরবানির মাংস সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন করুন। দরিদ্র ও অসহায়দের
মধ্যে মাংস বিতরণ করে সমাজসেবামূলক কাজ করুন। এ সময় অতিরিক্ত ইবাদত, নামাজ,
কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মনোনিবেশ করুন। ঈদুল আযহার এই ছুটি শুধু বিশ্রাম
নয়, বরং ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ। পরিকল্পনা করে ছুটিটা যেন
অর্থবহ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আত্মীয়দের খোঁজ নিন, প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক
উন্নয়ন করুন এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আল্লাহ তা’আলা আমাদের
সবাইকে এই ঈদুল আযহার ছুটিটা সুন্দরভাবে কাটানোর, কুরবানির সওয়াব লাভের এবং
পরিবার-সমাজে শান্তি ও বরকত নিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। ঈদুল আযহা ২০২৬ সবার
জন্য আনন্দময় ও কল্যাণকর হোক। আমীন।
শেষ কথাঃ ঈদুল আযহা ২০২৬ কবে
হবে বিস্তারিত তথ্য জানুন
ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে হযরত ইবরাহিম
(আ.)-এর আল্লাহর প্রতি অসীম আনুগত্য ও ত্যাগের কাহিনি স্মরণ করা হয়। কুরবানির
মাধ্যমে আমরা শেখি যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত
থাকতে হয়। ঈদুল আযহার এই শুভ মুহূর্তে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আল্লাহ
যেন আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করেন এবং আমাদের জীবনকে বরকতময় করেন। এই ঈদে
আমরা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। ঈদুল
আযহার শুভেচ্ছা বার্তায় সাধারণত আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও বরকত কামনা করা হয়।
একটি সুন্দর মেসেজ হতে পারে: “পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আপনাকে ও আপনার
পরিবারকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক। আল্লাহ তা’আলা আপনার সকল কুরবানি কবুল করুন,
দোয়া কবুল করুন এবং আপনার জীবনকে শান্তি ও সুখে ভরিয়ে দিন।” এ ধরনের বার্তা
পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। ঈদের দিনে এই
শুভেচ্ছা বিনিময় আমাদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করে।
ঈদুল আযহায় বিশেষ দোয়া পাঠ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি জনপ্রিয় দোয়া:
“আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্না ওয়া মিনকুম, ঈদ মোবারক।” অর্থাৎ, “হে আল্লাহ!
আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।” এছাড়া কুরবানির সময় “বিসমিল্লাহি
আল্লাহু আকবার” বলে তাকবির পাঠ করতে হয়। এই দোয়াগুলো আমাদের অন্তরকে আল্লাহর
নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। ঈদের এই পবিত্র দিনে বেশি বেশি নফল নামাজ, কুরআন
তিলাওয়াত ও দান-সদকা করা উচিত।ঈদুল আযহার মেসেজ সংগ্রহে সাধারণত ত্যাগ,
কৃতজ্ঞতা ও সামাজিক দায়িত্বের কথা উঠে আসে। “ঈদুল আযহা আসুক নিয়ে আসুক নতুন
আশা, নতুন স্বপ্ন এবং আল্লাহর অসীম রহমত। আপনার জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে
যাক, ঈদ মোবারক।” এমন মেসেজগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অনেককে উৎসাহিত করা
যায়। এই উৎসবে গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্য
অনুধাবন করা সম্ভব।
আরেকটি হৃদয়স্পর্শী শুভেচ্ছা: “পবিত্র ঈদুল আযহায় আল্লাহ আপনাকে দিন সুস্থতা,
পরিবারকে দিন ঐক্য এবং সমাজকে দিন শান্তি। আপনার কুরবানি যেন জান্নাতের পথ সুগম
করে। ঈদ মোবারক!” এ ধরনের বার্তা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। ঈদের
সময় আমরা পুরনো ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।ঈদুল
আযহার দোয়ায় বিশেষভাবে উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। “আল্লাহুম্মা আগনিনা
বিহালালিকা আন হারামিক, ওয়া বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।” এই দোয়া আমাদের হালাল
রিজিকের প্রতি উৎসাহিত করে। ঈদের এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল ও
তাসবিহ পাঠ করলে অন্তর প্রশান্ত হয়। কুরবানির মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজের
জন্য, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও এক ভাগ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা সুন্নত।ঈদুল আযহার
শুভেচ্ছা সংগ্রহ করে আমরা একে অপরকে উৎসাহিত করতে পারি। “যে ঈদ আনন্দ নিয়ে আসে,
সেই ঈদ যেন আপনার জীবনে স্থায়ী আনন্দ বয়ে আনে। আল্লাহ আপনার সকল প্রার্থনা পূরণ
করুন। ঈদ মোবারক!” এমন মেসেজগুলো শিশু থেকে বয়স্ক সবার মনে আনন্দের ঢেউ তুলে।
ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা পরা, মিষ্টি বিতরণ ও সালামি দেওয়ার মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ
পূর্ণতা পায়।
সবশেষে বলব, ঈদুল আযহা শুধু উৎসব নয়, এটি ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির উৎসব। আসুন আমরা
সকলে মিলে এই পবিত্র দিনগুলোতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং একে
অপরের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখাই। ঈদ মোবারক! আল্লাহ আমাদের সকলের দোয়া কবুল
করুন এবং জীবনকে কল্যাণময় করে দিন। এই সংগ্রহ আপনার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে
সাহায্য করবে বলে আশা করি।
প্রয়োজনীয় বিডি 24 নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url